প্রধান শিক্ষক বিদ্যালয়ে না গিয়েও হাজিরা খাতায় স্বাক্ষর॥ স্কুলের শিক্ষার মান জিরোর কোঠায়!

Www.munshiganjcrime.com
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

মমিন বিশ্বাস, মুন্সীগঞ্জ
একজন প্রধান শিক্ষক! তিনি আইনজীবিও বটে! তিনি বিদ্যালয়ে না গিয়েও হাজিরা খাতায় স্বাক্ষর করেন। প্রতি মাসে সরকার বরাদ্ধকৃত মাসিক বেতন তুলেন। উপজেলা শিক্ষা অফিস নানা দুর্নীতির অভিযোগে তাকে সাময়িক বরখাস্ত করেন। সেই সুযোগ কাজে লাগিয়ে বছরের পর পর বছর কাটিয়ে দিচ্ছেন। সাময়কি বরখাস্ত তুলে নিলেও তিনি বিদ্যালয়ে না গিয়ে কোর্টে আইনজীবি হিসেবে সশরীরে উপস্থিত হয়ে প্রাক্টিস করেন। সহকারি শিক্ষকগণ আইসিটি মামলার হুমকির ভয়ে প্রধান শিক্ষকের সকল অনিয়মকেই নিয়ম হিসেবেই মেনে নিয়েছেন। ম্যানেজিং কমিটির অসহযোগিতার ফলেই প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা যায়নি বলে অভিযোগ করেছেন উপজেলা শিক্ষা অফিসার। বর্তমানে স্কুলটির শিক্ষার মান জিরোর কোঠায়।

মুন্সীগঞ্জ গজারিয়া থানার ভাটেরচর দে এ মান্নান পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ের ২০১৩ সালের সেপ্টেম্বর এই বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক হিসেবে নিয়োগ পান মুহাম্মদ শাজাহান শিকদার। এরপরেই ফারজানা ইয়াসমিন কে ভারপাপ্ত প্রধান শিক্ষক হিসাবে ১৬/০৫/২০১৭ ইং তারিখে দেখিয়ে মুন্সীগঞ্জ জেলাবারে নিয়োমিত ওকালতি করছেন প্রধান শিক্ষক মুহাম্মদ শাজাহান সিকদার।

একই ব্যক্তি অভিনব দোহাই দিয়ে একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শিক্ষার আলো ছড়াবে দুরে থাক ম্যানিজিং কমিটির সাময়িক বরখাস্ত দেখিয়ে বিদ্যালয়ের কাজ হাজিরা খাতায় স্বাক্ষর সহি তার নিয়মে চালিয়ে যাচ্ছেন এবং বিদ্যালয়ের যে কোন বিষয় টেলিফোনে নিজেকে প্রধান শিক্ষক হিসেবে পরিচয় দিয়ে সকল কাজ করে চলছেন তার নিজ ক্ষমতার বলে। এমন কি ছায়া প্রধান শিক্ষক ভারপাপ্ত যিনি তার নির্দশনা নিয়ে কাজ করছেন বলেও একাধিক অভিযোগ আছে।

বিদ্যালয়ের বিষয় কেউ কোন কথা বলতে নারাজ কারন এই বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির কারসাজিতেই সাময়িক বরখাস্ত প্রধান শিক্ষক, অপর দিকে প্রধান শিক্ষক মুন্সীগঞ্জের জেলা বারের একজন এডভোকেট। আই সিটি মামলার ভয়ে কেউ কোন কথা বলছেন না। এ বিষয় একাধিক ব্যক্তি বিদ্যালয়ের পূর্বের মান আর বর্তমান মান নিয়েও কথা বলেন এবং নাম প্রকাশ না করা শর্তে একাধিক ব্যাক্তি বলেন বিদ্যালয়ের মান খুবই মন্দ। এই বিদ্যালয়ের ছাত্র বাংলাদেশের ভালো ভালো জায়গাতে আছে।

অনুসন্ধানে এ মাসের প্রথম ও গত মাসের শেষের দিকে ৫ কার্য দিবস বিদ্যালয়ে গেলে বিদ্যালয়ের নানা বিষয় গড়মিল দেখা মিলে। প্রধান শিক্ষককে না পেয়ে একাধিক শিক্ষকের সাথে কথা হয়। প্রধান শিক্ষকের অনুমতি নিয়ে অন্য শিক্ষকের সাথেই আলাপ হলে জানা যায় তিনি (প্রধান শিক্ষক) মাঝে মাঝ বিদ্যালয়ে আসে। বিদ্যালয়ের কাজেই থাকেন বলে জানান একাধিক শিক্ষক। হাজিরা খাতা দেখতে চাইলে শিক্ষকরা বলেন এটা অনুমতি নেই বড় স্যারের।

এ বিষয় ভাটের চর দে মান্নান প্ইালট উচ্চ বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি সাখাওয়াত হোসেন মোবাইল ফোনে জানায় এই প্রধান শিক্ষক এর কারনেই আমাদের বিদ্যালয়ের সমস্যা হচ্ছে। ইতিমধ্যে সাময়িক বরখাস্ত উড্ড হয়েছেন আবার তিনি বিদ্যালয়ে না এসে শিক্ষার্থীদের সমস্যায় ফেলছেন । তাহার বিরুদ্ধে কোন শিক্ষকই সত্য না বলায় বিদ্যালয়ের কাজ রেখে কোটে যায় মামলা পরিচালনা করছে। আমি নিজেও তাহার অনেক কম্পিলিন শুনি তবে প্রমানের অভাবে কিছু করতে পারছি না।

এই বিষয় অভিযুক্ত প্রধান শিক্ষক শাজাহান শিকদার বলেন , আমি অনেক আগে কোটে প্যাকক্টিস করতাম এখন কোর্টে যাই না। কোন ওকালত নামায় আমি স্বাক্ষর করি না। দু একটি মামলা আগে ছিলো, এখন বিদ্যালয়ে যাই নিয়মিত। একটা সময় আমি দীর্ঘদিন বহিস্কৃত ছিলাম সাবেক ও বর্তমান সভাপতিদের রাজনৈতিক ভুল বোঝা বোঝিতে। বোড আমার বিরুদ্ধে কোন অভিযোগ প্রমাণ করতে পারে নাই। এখনও আমার বিরুদ্ধে লেগে আছে। যখন বলা হয় আমি বিদ্যালয়ে গিয়ে আপনাকে না পেয়ে ফোন করেছি তখন প্রধান শিক্ষক শাজাহান শিকদার বলেন আমাকে ফোন দিয়ে গেলেই তো আমি থাকতাম। ৫ দিনের অনুসন্ধানের বিষয় বলার পরে তিনি বলেন মাঝে মাঝে একটু সমস্যা থাকলে যাই না কোন ৫ দিন বিদ্যালয়ে গিয়েছি তা কৌশলে জানার চেষ্ঠা করেন শিক্ষক শাজাহান শিকদার ।

এ বিষয় থানা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার জাকির হোসেন মোবাইল ফোন আলাপে বলেন, মুহাম্মদ শাজাহান শিকদারকে আমার ইনফরমেশনে সাময়িক বরখাস্তকৃত ছিলো। এক বছর পূর্বেই সেই বরখাস্ত অর্ডারটি বাতিল করা হয়। এই শিক্ষকের বিষয় ম্যানিজিং কমিটি বেশ ভালো বলতে পারবেন, ম্যানেজিং কমিটির আশ্রয়েই ওনি বেশ শক্তিশালি। কেউ আমাদের সঠিক কোন তথ্য দিতে পারে নাই বলেই আমরা কোন ব্যাবস্থাও নিতে পারছি না।

একজন প্রধান শিক্ষক হয়ে কোর্টে কোন পেক্টিস করতে পারে না আর কোন ওকালত নামায় স্বাক্ষর করে থাকলেও আমাদের আইনি ব্যবস্থা নিতে খুবই সহজ হয় প্রমান সাপেক্ষে।

সাংবাদিক ফোন আলাপে জানান , এই প্রধান শিক্ষক ১৯/১০/২০০৫ সালে বার কাউন্সিলের সদস্য পদ লাভ করেন, মুন্সীগঞ্জ জেলা বারের সদস্যপদ লাভ করেন ১৬/০৬/২০০৭ এবং প্রধান শিক্ষক হিসেবে হেড মাস্টার নিয়োগ ২০১৩ সালে এমন কথার পরিপ্রেক্ষিতে সাংবাদিকদের অফিসে দেখা করতে বলেন এবং দীর্ঘ দিনের স্বাক্ষর একদিনে করেন এর ব্যবস্থাও নেবেন বলে জানান থানা শিক্ষা অফিসার জাকির হোসেন ।

বারের সাধারণ সম্পাদক এডঃ মাসুদ আলম ফোন আলাপে বলেন আমাদের বারে কেউ কোন তথ্য গোপন করে ওকালতি করলে আইন অনুয়ায়ী ব্যাবস্থা নিবো, তবে তা বিধিমালা দেখে করতে হবে। একজন শিক্ষক কখনই শিক্ষকতার সাথে আইনী পেশায় নিয়মিত পেক্টিস করতে পারেন না , তবে শিক্ষক শাজাহান শিকদার কোর্টে প্রায় সময়ই আসেন সেই বিষয় আমরা কিছু বলতে পারি না অভিযোগ ছাড়া।

এই বিষয় মন্সীগঞ্জ জেলাবারের সভাপতি এডঃ জাকারিয়া মোল্লা জানান, এডঃ শাজাহান শিকদার তাহার শিক্ষকতা না থাকায় এক সময় ছিলো এই বারের ওকালতি পেশায় যোগ দেন। তবে চাকুরী হবার পরে আনুমানিক ২০১৭ সালে বার হতে ওকালতি পেশা হতে বিদায় নেন।

Share

Www.munshiganjcrime.com
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •